রাব্বাতুল বাইত কেমন হওয়া উচিত

0
একজন স্বামী চাইলেই পারে স্ত্রীকে পর্দায় রাখতে। যদি সে চায়!একজন স্বামী চাইলেই স্ত্রীকে পর্দার পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারে।যদি সে চায়! সে দিতে বাধ্য!বাধ্য!বাধ্য!
তা না হলে জবাবদিহিতে পরতে হবে সেই স্বামীকে।
স্বামী যদি straightly বলে দেয় আমার স্ত্রীকে তার মাহারাম ছাড়া আর কেউ দেখতে পারবে না। আমি চাই না তাকে দেখুক অন্য কেউ। তা না হলে আমাকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, তাহলে কারোই সে সাহস নেই যে তার কথা এড়িয়ে অন্য কেউ তার স্ত্রীকে দেখবে। হ্যাঁ এটাও যদি সে চায়! ইন শা আল্লাহ…
কিন্তু আফসোস! একটা বোন পরিপূর্ণ পর্দা, পর্দার পরিবেশ চাইলেও ভাইদের গাফিলতির কারনে বোনরা হেরে যায়! হেরে যেতে হয়..!

রাব্বাতুল বাইত কেমন হওয়া উচিত আরবিতে প্রিয়তমা স্ত্রীকে বলা হয়, ‘রাব্বাতুল বাইত’ অর্থাৎ ঘরের রাণী।প্রেম করার জন্য মেয়ের অভাব না হলেও সংসার করার জন্য মেয়ের অভাব রয়েছে। প্রেম করা যায় এমন সকল মেয়েই সংসারী হতে পারেনা, কিন্তু সংসারী প্রত্যেকটা মেয়েই প্রেমময়। সংসারী বলতে কী বুঝায়?সিনেমা নাটকে যেভাবে উপস্থাপন করে যেমন,একসাথে প্রতিদিন ঘুড়ে বেড়ানো, ঘাড়ে চড়িয়ে নিয়ে ঘুরা, রেস্টুরেন্টে চেক-ইন, সবুজ মাঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে হাতে হাত রেখে শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখা, রোমান্স ইত্যাদি- আসলে বাস্তবতা এমন না।অনেকে শুধু এই থিওরী তে বিয়ে করতে আগ্রহী যে বিয়ের পর দুইজন একসাথে রোমান্স করব, ঘুরব, রেস্টুরেন্টে এ যাবো আর চেক-ইন দিব, আর ফিজিক্যাল ব্যাপারটা তো আছেই, সেটা বিয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য না হলেও বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য এবং গুরুত্বপূর্ণও।কিন্তু জীবন এত সহজ না। এখানে অনেক গুলো ঝামেলার ব্যাপার আছে। সংসারে অভাব আসবে, ঝামেলা আসবে, মনোমালিন্য কথা ধরা ধরি দেখা দিবে, সদস্য গুলোর মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে, চিন্তা বিষন্নতা আসবে, এক সময় মনেও হবে বিয়ে করে ভুল করেছি, হয়ত কঠিন কোন বিপদ আসবে, অসুখ বিসুখ হবে কারোর ইত্যাদি। তারপর আল্লাহ যখন নেয়ামত হিসেবে সন্তান দান করবেন, সেই সন্তান একই সাথে নেয়ামত আবার পরীক্ষা, কাউকে সন্তান দিয়ে পরীক্ষা করা হয়, কাউকে না দিয়ে। মূলত সংসার জীবনটাই পরীক্ষা।কিন্তু এই সব কিছুকে ম্যানেজ করা যায় যে একজনকে সাথে নিয়ে এমন কাউকে বিয়ে করা যায়, এমন কারোর সাথেই সম্পর্কটা হওয়া উচিত।যৌবনের পুরোটা জুড়েই একজন মানুষ ফ্যান্টাসী তে ভুগে। ঠোঁটে ঠোঁট ডুবাতে সবারই ভালো লাগে, কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে যখন সেই ঠোঁট দিয়ে লালা ঝরবে তখন সেটা পরিষ্কার করে দেওয়ার মানসিকতা কয়জনের আছে?যার সাথে বিছানায় প্রতিনিয়ত যৌবন উপভোগ করা হয় সেই মানুষটিই বৃদ্ধকালে যখন বার্ধক্যজনিত কারণে বিছানায় পড়ে থাকবে, বিছানা নষ্ট করবে সেই সময়গুলিতে প্রতিনিয়ত তার সেবা করা সেভাবেই উপভোগ করতে প্রস্তুত তো? এইগুলো কি কেউ চিন্তা করে দেখি?আধুনিক কালের বেশিরভাগ সম্পর্ক গুলো ফ্যান্টাসী দিয়ে শুরু হয়, তাই ফ্যান্টাসী শেষে আবার ভেঙ্গেও যায়, এমনকি বিয়ে হলেও ভেঙ্গে যায়। যেই চামড়া দেখে আকৃষ্ট হচ্ছি, সন্তান হবার পর যখন সেই চামড়া গুলোতে টান পড়বে, ফিগার মুটিয়ে যাবে তখনও আমরা আকৃষ্ট হবো তো?আসলে সম্পর্ক গড়ার সময় এইসবের খেয়াল আসে না। কারণ শুধুমাত্র তাতক্ষণিক কে নিয়ে ভাবা হয় সেই সম্পর্কে। শারীরিক সৌন্দর্য, ক্ষণিকের আনন্দ ডেটিং গুলোই সেখানে মুখ্য থাকে।বিয়ে করার জন্য খুব সাবধানে পাত্রী পছন্দ করা উচিত। আপনার সঙ্গী আপনার পোষাক, আর পোষাক এর কাজ ইজ্জত আব্রু রক্ষা করা! সে আপনার দ্বীন কে পূর্ণাঙ্গকারী, দ্বীনের অর্ধেক, আপনার ইহকাল পরকাল জড়িয়ে আছে তার সাথে। কেবল ফ্যান্টাসীতে ভুগে ফ্যান্টাসী ভালো জমবে এমন কাউকে প্রাধান্য দিয়েই জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া উচিত না।একজন সচ্চরিত্রবান মেয়ে কে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলে, যদি কোন কারণে তার স্বামীর শারীরিক গঠন, চেহারা তার অপছন্দও হয় তবুও সারাজীবন সে তার স্বামীকে ভালোবেসে সেবা করে যাবে শুধু আল্লাহ এর সন্তুষ্টির জন্য। স্বামীর সন্তুষ্টিতে আল্লাহ এর সন্তুষ্টি, স্বামী কারোর উপর সন্তুষ্ট থাকলে সে খুব সহজেই জান্নাতের যেকোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। জান্নাতে তার কোন চাওয়া পাওয়া অপূর্ণ থাকবেনা ভেবে এই দুনিয়াটা সে শোকর বা সবর করেই কাটিয়ে দিবে।অনুরূপ ভাবে একজন সচ্চরিত্রবান ছেলে কে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলে কোন কারণে তার স্ত্রীর শারীরিক গঠন, সৌন্দর্য ইত্যাদি তাকে সন্তুষ্ট না করলেও সেও আল্লাহ এর সন্তুষ্টির জন্য সারা জীবন স্ত্রীকে ভালোবেসে যাবে, তার সেবা করবে কারণ রাসূল ﷺ এর ভাষ্যমতে সেই সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।তাই বিয়েতে কেবল এবং কেবলই একজন আল্লাহ ভীরু, আল্লাহ লাভার কে প্রাইওরিটি দেওয়া উচিত। সাথে আল্লাহ সৌন্দর্য, বংশমর্যাদা এবং শিক্ষা মেলালে আলহামদুলিল্লাহ, আর না মেলালেও আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ অন্যদিক দিয়ে পুষিয়ে দিবেন।অনেকেরই দেখা যায় স্বামী স্ত্রী দুইজনের চেহারাই হয়ত মোটামুটি কিন্তু সন্তানরা যেন একেকজন রাজপুত্র/রাজকন্যা হয়েছে। আর এই দুনিয়ার সামান্য প্রাপ্যতাকে বিশাল সুদে পুষিয়ে রাখার জন্য তো আল্লাহ পরের দুনিয়া প্রস্তুত রেখেছেন। এই সুদ হারাম না, জীবনের একমাত্র হালাল সুদ।আল্লাহ তা’আলা সবাইকে বুঝার তৌফিক দিক।

Choose your Reaction!
Leave a Comment

Your email address will not be published.

Latest Posts